রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানির নকল লেবেল ও লোগো ব্যবহার করে ভেজাল ওষুধ মজুত ও বাজারজাত করার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন নগরীর পবা থানার বড়গাছী গ্রামের বাসিন্দা আক্কাশ আলীর ছেলে মোঃ আরিফ আলী (২৮)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তার সঙ্গে আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার কয়েরদারা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভূমি অফিসের সামনে অবস্থিত মোস্তাফিজুর রহমানের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় উক্ত ফ্ল্যাট থেকে মোঃ আরিফ আলীকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও নকল লেবেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ‘Emistat 8mg/4ml’ লেখা লেবেলযুক্ত ৫৭৫টি ছোট কাচের অ্যাম্পুল, ২০৩টি লেবেলবিহীন বাদামি রঙের কাচের অ্যাম্পুল, ‘NEOPENEM Injection Meropenem USP 1g’ লেখা লেবেলযুক্ত ২৫টি কাচের অ্যাম্পুল, ডিস্ট্রিলড ওয়াটার ভর্তি ৮০০টি লেবেলবিহীন সাদা কাচের অ্যাম্পুল এবং ‘Oricef, Ceftriaxone USP 1g, 1g IV’ লেখা ৫০টি নকল লেবেল।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নকল লেবেল ব্যবহার করে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং তা বিভিন্ন ফার্মেসি ও বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। এ ধরনের ভেজাল ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

