আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতেই নির্বাচন বানচালের জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
মিলন বলেন, জামায়াত বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শোনা যাচ্ছে তারা নকল ব্যালট পেপার ও সিল তৈরি করেছে। কোথাও কোথাও ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব নম্বর নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহীর নওহাটায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও হাজার হাজার পিস বোরকা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তারা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তবে জনগণ এবার এসব মেনে নেবে না এবং কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে বয়স্ক, যুবক-যুবতী এমনকি শিশুরাও ব্যাপক উৎসাহ দেখাচ্ছে। ২০২৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে তিনি নির্বাচিত হলে কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা, বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন এবং পিসি ইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
তিনি বলেন, পবা ও মোহনপুর উপজেলার অধিকাংশ সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। নির্বাচিত হলে দ্রুত এসব সড়ক সংস্কার ও নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ এবং বিসিক-২-কে কর্মমুখী করতে প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া সহজীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মিলন অভিযোগ করেন, জামায়াতের এমপি প্রার্থী দীর্ঘ ২৮ বছর হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মেয়াদকালে সরকারি অনুদান হিসেবে কোটি কোটি টাকা এলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। হড়গ্রাম ইউনিয়নে গেলে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জামায়াত শুধু মুখে বড় বড় কথা বলছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন নেই।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের উন্নয়নে বিএনপির উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, এজন্য জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে। কিছু ব্যক্তি ধর্মের অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলেম-ওলামাদের এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ভবিষ্যতেও তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং এ দল থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

