উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নির্বাচনী প্রচারণা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। দুপুর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার ছয়টি আসন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী), রাজশাহী-২ (সদর), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) এর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিএনপি প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন, রাজশাহী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াত প্রার্থী ডা. মো. জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।
এছাড়া রাজশাহী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান ও জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীক হাতে পাওয়ার পর প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে গিয়ে গণসংযোগ চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা। অধিকাংশ প্রার্থীই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি সব প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই রাজশাহী মহানগর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রচারণার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট ৫৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জন প্রার্থী প্রথমে বৈধ ঘোষিত হন। পরে আপিলের মাধ্যমে কয়েকজন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান। শেষ পর্যন্ত ৩২ জনের মনোনয়ন বৈধ থাকলেও শেষ দিনে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ছয়টি আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

