ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে যে শান্তিপূর্ণ ভোটের নজির তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। সংঘর্ষহীন এই নির্বাচনকে ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজশাহীর নাম।
দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী থেকে কেউ পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব না পাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছিল এক ধরনের আক্ষেপ। অতীতে প্রতিমন্ত্রী পাওয়া গেলেও পূর্ণমন্ত্রীর প্রত্যাশা বারবার অপূর্ণ থেকেছে। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন রাজশাহীবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন একটাই দাবি—রাজশাহী থেকে যেন একজন প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
এবার রাজশাহী অঞ্চলের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি জয় পেয়েছে। নির্বাচিত চার এমপির মধ্যে তিনজন নতুন মুখ। একমাত্র অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘উত্তরাঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা’ হিসেবে পরিচিত মিনুর নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রাপ্ত ২১২ আসনের বড় বিজয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সে বিবেচনায় রাজশাহীর চার এমপির মধ্যে মিনুই সবচেয়ে এগিয়ে। তিনি পরপর তিনবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, একবার সংসদ সদস্য এবং একবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষক সমাজের অভিমত, মিজানুর রহমান মিনুর মতো অভিজ্ঞ ও সংগঠক নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে শুধু রাজশাহী নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মিনুর রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্রদলের মাধ্যমে। ১৯৭৮ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা। এরপর যুবদল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি, সিটি করপোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন।
রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, মিজানুর রহমান মিনুর মতো বলিষ্ঠ ও দক্ষ নেতা উত্তরাঞ্চলে বিরল। তাকে মন্ত্রী করা হলে যোগাযোগ খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদেরও একই দাবি। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীকে শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে মিনুর ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে তাকে মন্ত্রী করা জরুরি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে নতুনভাবে সাজাতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতারাও মিজানুর রহমান মিনুকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, সুলতানগঞ্জ নদীবন্দরসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে মিনুর মতো দক্ষ নেতার মন্ত্রী হওয়া সময়ের দাবি।
এদিকে নির্বাচনের পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিনুর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করছেন হাজারো নেটিজেন। তাদের অভিন্ন দাবি—রাজশাহীর উন্নয়ন ও উত্তরাঞ্চলের স্বার্থে মিজানুর রহমান মিনুকে যেন নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

