বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন : অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে পুকুর সিন্ডিকেট! কোরআনের পাখিদের সাথে ইফতার করলেন মাহফুজুর রহমান রিটন লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই লাচ্ছা সেমাই বিক্রি! নওগাঁয় বিএসটিআইয়ের জরিমানা রাজনীতির মাঠ থেকে প্রশাসনিক আলোচনায় রিটন নগরীর মতিহার থানা বিএনপি’র আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ​ভাষা দিবসে সম্প্রীতির বার্তা : রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের শ্রদ্ধাঞ্জলি রমজানের প্রথম দিনেই মানবিক উদ্যোগ, ভ্যানচালকের পাশে এসি ল্যান্ড ​রাজশাহীতে গাড়ির মনিটরের ভেতরে মিলল দেড় কেজি হেরোইন, গ্রেপ্তার ১ রাজশাহী-২ থেকে পূর্ণ মন্ত্রী পেল মিনু, নগরজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস রাজশাহী থেকে পূর্ণমন্ত্রী চান নগরবাসী, আলোচনার শীর্ষে মিনু
এইমাত্র পাওয়া
*** নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক সাদাকালো*** জেলা প্রতিনিধি*** ভিডিও কনটেইনসহ সিভি পাঠান।**dainiksadakalo@yahoo.com**
অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন : অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে পুকুর সিন্ডিকেট!
/ ১ Time View
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় সমিতি, মৎস্যজীবি সমিতি ও মৎস্যচাষী সমিতি নিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া এনআইডি, ভুয়া মৎস্যজীবি কার্ড ও ভুয়া উপ-আইন দিয়ে এসব সমিতি অনুমোদনের অভিযোগ পাওয়া যায়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, অদৃশ্য এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে ১ জন ব্যক্তি শতাধিক সমিতি নিবন্ধন নিয়েছেন। এতে জালিয়াতি করা হয়েছে এনআইডি, মৎস্যজীবি কার্ড ও উপ-আইন। পুরো উপজেলার পুকুর-জলাশয় কুক্ষিগত করতে এমন জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
জালিয়াতি চক্রে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম সহ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা – কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমান মিলেছে।

অভিযোগ রয়েছে সমিতি প্রতি ৫০ হাজার টাকা অফিসের টেবিলে দিলেই এসব ভুয়া সমিতির নিবন্ধন পাওয়া যায়।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার গাঙ্গোবাড়ি এলাকার পুকুর সিন্ডিকেটের মূল হোতা বিশু এখন ভয়ঙ্কর বিশু হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। বিশু অবৈধ কাগজপত্র দিয়ে সমিতি নিবন্ধন সহ হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে একাই ৫ শ থেকে ৬ শ পুকুর নিজ কব্জায় রেখেছেন। চুক্তি পত্রে এসিল্যান্ড সবুজ হাসানের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ট্রেজারী চালান জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই জালিয়াতিতে সকল সহযোগিতা জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসীর ভূমিকা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

একতা মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, মাধবপুর মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, গোদাগাড়ী মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, গোদাগাড়ী পৌর মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, ফরিদপুর মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, রামনগর মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, গোলাপফুল মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, কাঁকনহাট মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ সহ বরেন্দ্র মৎস্যাজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সমিতির অফিস, এনআইডি, মৎস্যজীবি কার্ড ও উপ-আইনের বাস্তবিক চিত্রে কোন মিল নেই। তালিকায় উল্লেখিত হাটপুকুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি খালিদ হাসানকে ফোন করলে তিনি জানান, আমি খালিদ হাসান নই। আমি চারঘাট থেকে বলছি।আমি এসব সমিতির বিষয়ে কিছু জানি না!

এদিকে মুক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ভূয়া ঠিকানা ও ভূয়া এন আইডি কার্ড দিয়ে নিবন্ধিত সমিতির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে অভিযোগ করেন জেলা সমবায় অফিসে।

অভিযোগে তিনি বলেন, রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবি স.স.লিঃ গ্রামঃ রসুলপুর নুন্দাপুর, ডাকঃ কাঁকনহাট, গোদাগাড়ী, রাজশাহীর নামে একটি মৎস্যজীবি সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। যার নিবন্ধন নং ২০২৫.১.০২.৮১৩৪.০৩৯৮ তারিখ ৭/৫/২০২৫ ইং। সমিতির সভ্য নির্বাচনি এলাকা ও কর্ম এলাকা নির্ধারন করেছেন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভা ও গোদাগাড়ী ইউনিয়ন ব্যাপি। প্রকৃত পক্ষে সমিতির সভ্য নির্বাচনি ও কর্ম এলাকার মধ্যে রসুলপুর নুন্দাপুর নামে কোন গ্রাম নেই। যা সম্পূর্ণ ভূয়া ঠিকানা।সমিতির ২০ জন সদস্যের মধ্য একজন সদস্য শুধু সমিতির সভ্য নির্বাচনি এলাকায় বাকী ১৯ জন সদস্যই সমিতির সভ্য নির্বাচনি ও কর্ম এলাকার বাহিরে।

মৎস্যজীবি সমিতি নিবন্ধনের জন্য ২০ জন সদস্যের এফ আইডি কার্ড থাকা আবশ্যক। কিন্তু এফ আইডি কার্ড না থাকা সত্ত্বেও বে-আইনিভাবে সমিতিটি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে তিনি উপজেলার ২ জন স্টাফ পরিদর্শক মোঃ খাইরুল ইসলাম, তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়াও গত ২৫ ফেব্রুয়ারী মোঃ এমদাদুল হক, পিতা- মৃত আরমান আলী, গ্রাম: বালিয়াঘাটা, ডাকঘর: চৌহদ্দিটোলা, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহীর পক্ষে, এডভোকেট মোসাম্মাৎ শামীম আরা খাতুন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতি ব্যাতিত অন্যান্য উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতির অনলাইন আবেদন বাতিলকরণ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুস শাদাৎ রত্ন এবং সদস্য সচিব সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করেন।

নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, আপনারা গোদাগাড়ী উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব। আপনারা গত ৪ জানুয়ারী ০৫.৪৩.৮১.৩৪.০০০.০৯.০১৬.২৬-১৭ মূলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলা ১৪৩৩-১৪৩৫ সনের ইজারা কার্যক্রম গ্রহণ করছেন এবং প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় গোদাগাড়ী উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতির পাশাপাশি রাজশাহী জেলার চারঘাট, বাঘা, বাগমারা, পুঠিয়া, দূর্গাপুর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতিকে ইজারায় অংশগ্রহণ করার জন্য পরিশিষ্ট-ক (সিডিউল) বিক্রয় করেছেন। সমগ্র বাংলাদেশে যেহেতু এক যোগে এক সাথে ইজারা কার্যক্রম ও অনলাইন আবেদন হয়েছে সেহেতু নিজ নিজ উপজেলায় সকল মৎস্যজীবী সমিতি ইজারায় অংশগ্রহণ করেছেন বা অনলাইন আবেদন করেছেন। সব উপজেলাতেই সমিতির চাইতে পুকুরের সংখ্যা বহু গুন বেশী।

মৎসজীবী সমিতিগুলো নিজ নিজ উপজেলায় পুকুর ইজারায় অংশ গ্রহণ করেছেন এবং আপনারা গোদাগাড়ী উপজেলায় যদি আবার ঐসব মৎস্যজীবী সমিতির নামে পুকুর অনুমোদন দেন তাহলে ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-৬ এর ৪ ধারা লঙ্ঘন হবে। এছাড়াও পুকুর সিন্ডিকেটের অসাধু সদস্যরা লাভবান হবে। অপরদিকে স্থানীয় গোদাগাড়ী উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতিসমূহ পুকুরের ইজারা থেকে বঞ্চিত হবে। যেহেতু গোদাগাড়ী উপজেলায় মৎস্যজীবী সমিতি রয়েছে প্রায় ২৫০ টিরও বেশি।

তাই সেইসব সমিতির স্বার্থ ক্ষুন্ন করা হলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। নোটিশ প্রাপ্তির পর গোদাগাড়ী উপজেলা ব্যাতিত অন্যান্য উপজেলার সমিতির আবেদন সমূহ বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রতিপালন করবেন। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নীতিমালা অবমাননার জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা ও মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে। অত্র নোটিশের পর আর কোন নোটিশ দেওয়া হবে না।

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী সমবায় অফিসার জিগার হাসরত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে এবিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া জন্য জেলা সমবায় কর্মকর্তা আদেশ দিয়েছেন। আমরা অভিযোগ গুলো তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয় গুলো আমার জানা নেই। তবে ভুয়া লাইসেন্স বা তথ্য গোপন করে অথবা অসত্য তথ্য দিয়ে কেউ আবেদন করে লাইসেন্স নিলে তা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category