বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন : অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে পুকুর সিন্ডিকেট! কোরআনের পাখিদের সাথে ইফতার করলেন মাহফুজুর রহমান রিটন লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই লাচ্ছা সেমাই বিক্রি! নওগাঁয় বিএসটিআইয়ের জরিমানা রাজনীতির মাঠ থেকে প্রশাসনিক আলোচনায় রিটন নগরীর মতিহার থানা বিএনপি’র আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ​ভাষা দিবসে সম্প্রীতির বার্তা : রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের শ্রদ্ধাঞ্জলি রমজানের প্রথম দিনেই মানবিক উদ্যোগ, ভ্যানচালকের পাশে এসি ল্যান্ড ​রাজশাহীতে গাড়ির মনিটরের ভেতরে মিলল দেড় কেজি হেরোইন, গ্রেপ্তার ১ রাজশাহী-২ থেকে পূর্ণ মন্ত্রী পেল মিনু, নগরজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস রাজশাহী থেকে পূর্ণমন্ত্রী চান নগরবাসী, আলোচনার শীর্ষে মিনু
এইমাত্র পাওয়া
*** নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক সাদাকালো*** জেলা প্রতিনিধি*** ভিডিও কনটেইনসহ সিভি পাঠান।**dainiksadakalo@yahoo.com**
গ্যাসের চুলাই হতে পারে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কারণ!
/ ২৯৮ Time View
রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

বর্তমানে রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজলভ্য উপায়। আগে আমাদের দেশে মাটির চুলা, বন্ধুচুলা, স্টোভ, কাঠের ভুসির চুলা ইত্যাদি ব্যবহার করে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে নিত্যদিনের খাবার রান্না হতো। সময়ের সাথে সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন গ্রামের চুলা ব্যবহারের আধিক্য দেখা যায়। তবে এই গ্যাসের চুলাই হতে পারে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কারণ!

দিন দিন বায়ু দূষণের সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। সাধারণত ধারণা করা হয় কল-কারখানা আর যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণের কারণ। তবে রান্নার সময়ও বায়ুদূষণ হয় এই কথাটি অনেকের কাছেই নতুন লাগতে পারে। তবে রান্নার মাধ্যমে আমাদের ঘরের মধ্যেও বায়ুদূষণ হয়ে তা আমাদের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের হাঁপানিজনিত রোগ হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা থাকে।

হাঁপানি এমন একটি রোগ যা সরাসরি শ্বাসনালীতে প্রভাব ফেলে। এতে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায়। তার ফলে শ্বাসক্রিয়ার সময় বায়ু প্রবাহে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে সাময়িক সময়ের জন্য হৃদপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। যদিও ইনহেলার ব্যবহার করে এবং অ্যাজমা প্রতিরোধ পরিকল্পনা করে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার একটি জরিপে দেখা যায়, দূষিত বায়ুর কারণে প্রায় শতকরা ১২ ভাগ শিশুরা হাঁপানিজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সেখানে শতকরা ৩৮ ভাগ মানুষই রান্নার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে থাকে। সেসব অঞ্চলে রান্নায় গ্যাসের চুলা ব্যবহারকারীদের ঘরের বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড পাওয়া গেছ, যা অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এছাড়া পিএম২.৫, বেনজিন ফরমালডিহাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড পাওয়া গেছে। এই উপাদান সবগুলোই মানবদেহ এবং শ্বসনালীর জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সূত্রপাত হয়।

বর্তমানে রান্নার জন্য বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস অনেক জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক চুলার চেয়ে গ্যাসের চুলায় রান্নার সময় ৩ গুণ বেশি নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। তাই এইসব কুকার রান্না করা শিশু এবং পরিবারের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। তবে আমাদের দেশের পরিস্থিতিতে অধিকাংশ মানুষের পক্ষে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের কারণে ইলেকট্রিক চুলা এবং কুকারের খরচ বহন করা কষ্ট সাপেক্ষ। অথচ তুলনামূলক সুবিধাবঞ্চিত এলাকাতেই বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট রোগের আধিক্য দেখা যায়।

রান্নার সময় সৃষ্টি হওয়া ক্ষতিকর নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড গ্যাস স্বাদহীন, বর্ণহীন, অদৃশ্য। তাই এর উপস্থিতি এবং পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন। তাই পরিবারের সকলকে সুরক্ষিত রাখতে কী কী করতে পারেন, জেনে নিন:

১. গ্যাসের চুলা ব্যবহার সীমিত করা সবচেয়ে প্রভাবশালী পদক্ষেপ হতে পারে।

২. রান্নাঘরে চিমনি অথবা এক্সহস্ট ফ্যান লাগাতে পারেন।

৩. প্রাকৃতিকভাবে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারেন। এইজন্য রান্নাঘরে জানালা বা ছোট দরজা থাকলে তা খোলা রাখতে পারেন। সম্ভব হলে একটু খোলামেলা রান্নাঘর তৈরি করা ভালো।

৪. হিটার ও ইলেকট্রনিক কুকারে রান্না করলে বায়ু দূষণের সম্ভাবনা অনেকাংশই কমে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category