রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এলাকার অভ্যন্তরীণ দপ্তর সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার নগর ভবন সরিৎ দত্ত নগর সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরীর চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রস্তাবিত প্রকল্পসহ যানজট নিরসন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, “রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের সেবা প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য দপ্তর সংস্থাকে সহযোগিতা করে আসছে। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করলে উভয় প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে। রাজশাহী নগরীকে আমরা আরো সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, নগরীর রাস্তাঘাট প্রশস্ত হওয়ায় অনেক যানবাহন দ্রুতগতিতে চলে। সেই সকল যানবাহনের গতি নিরোধ ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে যানজট নিরসন হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সভায় তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও উন্নয়ন সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমন্বয় করে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার আহ্বান জানান।
সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, সড়ক ও জনপদ বিভাগ রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (এনডিসি), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস.এম তুহিনুর আলম, রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল আলম সরকার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, বিসিক রাজশাহীর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী এবং রাজশাহী ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
সভায় আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মহানগরীকে নিরাপদ রাখতে রাসিকের সহযোগিতায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুরো শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে পারলে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এ সময় তিনি জনবহুল মোড়ে যানজট নিরসনে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে নগরবাসীকে উৎসাহ প্রদানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাজশাহী শহর দেশের মধ্যে অন্যতম সুন্দর ও বাসযোগ্য শহরের সুনাম অর্জন করেছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। উন্নয়ন সহযোগী দপ্তর সংস্থাগুলোকে একে অপরের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সমন্বয় সভার আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয় বিষয়।
আরডিএ চেয়ারম্যান এস.এম তুহিনুর আলম বলেন, ঢাকা বাস টার্মিনাল নওদাপাড়ায় স্থানান্তরের কাজ চলছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে সম্মত হয়েছেন। এটি আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা যায়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী ওয়াসার উপব্যবস্থাপক মো. তৌহিদুর রহমান, বাপাউবো রাজশাহীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, নেসকো রাজশাহী সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম চৌধুরী, গণপূর্ত রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডিকস্তা, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড রাজশাহীর ব্যবস্থাপক মো. রাসেল কবির, বাপাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম, রাজশাহী ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী জাহিন ফাইজা, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, মো. আলতাব উদ্দীন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহা. মেহেদী হাসান, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় রাজশাহীর সহকারী পরিচালক ডা. মো. আব্দুল মতিন, রাসিকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার সাহা, বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম. আঞ্জুমান আরা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান, সুব্রত কুমার সরকার, নিলুফার ইয়াসমিন এবং এ.বি.এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

