বেগম জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। আর ৩১ ডিসেম্বর তাঁকে তাঁর স্বামীর পাশে দাফন করা হয়। এমন ভাগ্য কয়জনের হয়। তাঁর অবর্তমানে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের ও দলের হাল ধরেছেন তারেক রহমান। তিনি তারেক রহমানের হয়ে পবা-মোহনপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বেগম জিয়ার জানাযায় পবা-মোহনপুর থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও নারীরা উপস্থিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ঘনঘটা ছিলো, সেই ঘনঘটা সরিয়ে দিতে ও মেঘমুক্ত আকাশ গড়ার জন্য দেশের জনগণ কাজ করেছেন। এখন যে পরিবেশ দেশে তৈরী হয়েছে তার বিএনপি একা করেনি। যারা মুক্তিযুদ্ধকে হাইজাক করেছিলো। এখন আবার তারাই গণঅভূত্থানকে হাইজাক করতে নানা তালবাহানা করছে। একটি গ্রুফ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হরণ করতে চেয়েছিলো বলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এটা কারো একক ক্রেডিট নয়। এরজন্য দীর্ঘ সতের বছর জনগণকে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। পাঁচ লক্ষ মামলা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের আয়না ঘরে আটকিয়ে রাখা হতো। জিয়ার সৈনিকেরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছ। এরপর ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে স্বৈরাচার খুনি হাসিনাকে বিদায় করেছে। এর ফলশ্রুতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে যদি বেগম জিয়া যদি থাকতেন এবং তাঁকে ধানের শীষ হাতে তুলে দিয়ে যদি বলতেন আপনাদেও নিকট আমকার মিলনকে রেখে গেলাম। কিন্তু আজকে তা হওয়ার নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। আপোসহীন নেত্রী আজ চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়েছে।
এই নির্বাচন বানচাল করতে একটি মহল ও দল এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই আজ আর কাজে আসবেনা। তিনি বলেন, একটি দল বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করেই চলছে। এই মোনাফেক দলে প্ররোচণা থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনকে তিনি সজাগ থাকার কথা বলেন। যারা নির্বাচন নিয়ে খেলা করতে চাচ্ছে তাদেরকে নজরে রাখার কথা বলেন। দেশে যেন কোন নাশকতা করতে না পারে এবং নির্বাচন নিয়ে যেন কোন বিশৃংখলা করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান। সেইসাথে পবা-মোহনপুরবাসীকে এ বিষয়ে সজাগ থাকবে। একটি দল অরাজকতা আর বিএনপি বসে থাকবে তারা ভাবার কোন অবকাশ নাই।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববাসীর নেত্রীতে পরিণত হয়েছে। তার মৃত্যুতে বিশ্বনেতারা শোক জানিয়েছেন। বেগম জিয়ার সেই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কারিগরী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে সকল শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। আর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ এখন পর্যন্ত পরিমাপ করে বলতে পারেনি। আর ভবিষ্যতের পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কারিগরী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে সকল শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে কোনপ্রকার মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজী থাকবে। ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে দেশ পরিচালনা করা হবে উল্লেখ করেন তিনি। আর এই ঘোষনা দিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। আর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ এখন পর্যন্ত পরিমাপ করে বলতে পারেনি। আর ভবিষ্যতের পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। বাংলার রাখালরাজা, বাংলাদেশের উন্নয়নের রুপকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন মেজর ছিলেন সে সময়ে ১৯৬০ সালে কিশোরী বয়সে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিয়ে হয়েছিলো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সে সময়ে বেগম জিয়ার বয়স হয়েছিলো মাত্র বিশ বছর। এই বয়সে তিনি নানা ধরনের ধকর সহ্য করেছেন। তিনি বলেন, সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন। এরপর সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তিনি আটক হন। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে সবার অনুরোধে তিনি রান্নাঘর থেকে রেড়িয়ে বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেইসাথে অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। সেইনেত্রী জন্যই আজকে এই দোয়া মাহফিল বলে জানান তিনি। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
শনিবার বিকেলে নওহাটা গার্লস কলেজ মাঠে নওহাটা পৌর এলাকাবাসীর আয়োজনে নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইনসাম রফিক এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জেলা বিএনপির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুল হালিম।
আরো উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ রাজশাহী জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন মুকুল, ৯নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোর্তজা, নওহাটা পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা মিজান, কাজি আজিজুল, শরিফুর রহমান, এমদাদুল হক, আলিশ, নওহাটা পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজন মোল্লা, ড,ি মিলন, আজাদ ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান জাফিজ, নওহাটা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রহমানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন তপর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।

