শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাসিক প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে তাৎক্ষণিক দুইটি নাগরিক সমস্যার সমাধান সাংবাদিকের ওপর হামলার মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, ২ আসামি গ্রেপ্তার ​হামলার শিকার রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতিকে দেখতে গেলেন বিএনপি নেতা রিটন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি চাঁদা না দেওয়ায় রাজশাহীতে প্রেসক্লাব সভাপতিকে কুপিয়ে জখম! ইঞ্জিনিয়ারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান এমপি মিলনের রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন : অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে পুকুর সিন্ডিকেট! কোরআনের পাখিদের সাথে ইফতার করলেন মাহফুজুর রহমান রিটন
এইমাত্র পাওয়া
*** নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক সাদাকালো*** জেলা প্রতিনিধি*** ভিডিও কনটেইনসহ সিভি পাঠান।**dainiksadakalo@yahoo.com**
ছোট্ট এই বাচ্চাদের নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কী করব
/ ২৭৪ Time View
শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪, ১২:১৮ অপরাহ্ন

ছোট্ট এই বাচ্চাদের নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কী করব

বায়ান্নর বাংলাদেশ:

ছোট্ট এই বাচ্চাদের নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কী করব, কিছুই জানি না।’ এভাবেই বিলাপ করতে থাকেন ঢাকায় গুলিতে মারা যাওয়া অটোমোবাইলস দোকানের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দীনের স্ত্রী সুমী আক্তার। স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই মুখে দানাপানি নিচ্ছেন না সুমী। পরিবারের সবাই জোর করায় দুই দিন ধরে সামান্য খাবার মুখে তুলে দিতে পারলেও কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। মায়ের মতোই চুপসে গেছে তার ১০ বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস। দেড় বছর বয়সী ছেলে সাইফ মায়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সালিকাবাঁকপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দীন। ঢাকার উত্তরায় একটি অটোমোবাইলসের দোকানে বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরি করতেন তিনি। থাকতেন ওই দোকানের গ্যারেজেই। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মালিকের নির্দেশে তিনি ও অপর এক সহকর্মী উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে যান গাড়ির কিছু যন্ত্রাংশ কিনতে। ফিরে আসার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জসিম। তার বুকে একটি বুলেট বিদ্ধ হয়েছিল। মুখমণ্ডল ও সারা শরীরে ছিল অসংখ্য রাবার বুলেটের ক্ষত। আজ শুক্রবার ভোরে গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছেছে জসিমের। সেখানেই জানাজার পর দাফন হয়।

নিহত জসিমের ভাই নিজাম উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে জসিম ছিলেন মেজ। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় যান বেশ কয়েক বছর আগে। বাবার বাড়ির জমিটুকু ছাড়া আর কোনো জমি নেই। চার ভাই বাড়ির বাইরে থাকেন, বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিতে ছোট চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতেই তাদের স্ত্রী-সন্তানেরা থাকেন। চার ভাই অল্প বেতন পাই, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসারটা টেনেটুনে নিচ্ছিলেন। কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এক ভাই চলে গেলেন।

জসিমের ১০ বছরের মেয়ে জান্নাতুল বলেন, ‘যেদিন বাবা মারা গেছে, সেদিন দুপুর ১২টায় আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল, “স্কুল থেকে যাওয়ার সময় তোমার কাকার দোকান (এলাকার পরিচিত দোকানি) থেকে দাদির জন্য ফল নিয়ে যেয়ো। আমি পরে টাকা শোধ করে দেব।” এই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা।’ ফোঁপাতে ফোঁপাতে ছোট্ট জান্নাতুল আরও বলে ‘মা আমার লগে রাগারাগি করলে বাবারে ফোন দিতাম। বাবা বলত, “তোমার আম্মুকে এবার বাড়িতে এসে অনেক বকে দেব।” এখন আমি কার কাছে নালিশ দেব, বাবা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category