কলকাতা থেকে শম্পা দাস: রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপাচার্যের অনুপস্থিতির ফলে শিক্ষাব্যবস্থা চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে—এ অভিযোগ তুলে রাজ্যের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, উপাচার্যবিহীন অবস্থার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সংগঠনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—জেইউটিএ, সিইউটিএ, আরবিইউটিএ, বিইউটিএ, ভিইউটিএ, এনবিইউটিসি, ডব্লিউবিএসইউটিএ, আরইউটিএ, ইউবিকেভিএসএস, এনএসওইউটিএ, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অবসরকালীন ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সরকার হঠাৎ করে নিয়ম-নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য অবসর সুবিধায় হস্তক্ষেপ করছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।
তারা আরও বলেন, অনেক শিক্ষক কম বেতন ও আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেও অবসরকালীন নিরাপত্তার আশায় এই পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে সেই নিরাপত্তাই প্রশ্নের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও গবেষকরাও এই পেশায় আসতে উৎসাহ হারাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। কারণ, কেন্দ্রীয় বেতন কাঠামোর তুলনায় রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বেতন কাঠামো এমনিতেই কম।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে প্রাপ্য অর্থের চার ভাগের তিন ভাগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাকি এক ভাগ কবে ও কীভাবে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে তারা অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
প্রেস কনফারেন্স থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহ হলো—
১. কোনো অবস্থাতেই এমপ্লয়ার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও লিভ এনক্যাশমেন্ট অনুমোদনের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।
২. কোনো অজুহাতে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও লিভ এনক্যাশমেন্টের অর্থ কর্তন করা চলবে না। অবসরকালে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে শতভাগ প্রাপ্য অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মান্য করতে হবে।
৩. ডিপিপিজির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনশন প্রদানের ফরম্যাট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
৪. পেনশন কমিউটসহ বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থা কোনোভাবেই বাতিল করা যাবে না।
৫. শিক্ষা দপ্তরের ৩১ জানুয়ারি ২০০০ সালের ৮৫ নম্বর সার্কুলারের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করতে হবে।
৬. পশ্চিমবঙ্গের যেসব ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে উপাচার্য নেই, সেখানে অবিলম্বে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করে অচলাবস্থা দূর করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এসব দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

